মেঘালয়-শিলং ভ্রমণে খুঁজে পান মনোমুগ্ধকর স্বর্গীয় অনুভূতির খোঁজে

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : প্রাকৃতিক পরিবেশে ক্যাম্পিংসহ উপভোগ করুন নানান সৌন্দর্য

বিস্ময়কর রুপ দেখতে পাওয়ার আনন্দই আলাদা। ছবি : ট্রিপসিলো ডট কম

 সারাদিনের ভ্রমণ শেষে রাতে গাড়ি আপনাকে নামিয়ে দিবে শ্নোনেংপেডেং নদীর তীরে। দূর থেকেই নদীর শব্দ আপনার কানে আসতে থাকবে। ক্লান্তিকর ভ্রমণ শেষে যখন শ্নোনেংপেডেং-এর সুশীতল বাতাস এসে লাগবে আপনার শরীরে তখন মনে হবে স্বর্গ বুঝি এখানেই। এক নিমিষে দূর হয়ে যাবে সকল ক্লান্তি। এই শ্নোনেংপেডেং-এর তীরেই রাতে ক্যাম্পিং করে থাকা যায়।

বর্ষাকালে নদীর তীর পানির নিচে তলিয়ে যায় কিন্তু বর্ষার শেষে বা শীতকালে নদীর পাড় ক্যাম্পিং করার জন্য অসাধারণ জায়গা। নদীর মনোমুগ্ধকর বাতাস, কলকল শব্দ, হিমশীতল পানি আপনাকে এক স্বর্গীয় অনুভূতি দিতে বাধ্য। এখানে পৌঁছে দেখবেন সারি সারি তাঁবু গেড়ে রাখা। আগে থেকে ক্যাম্পিং যারা করে তাদের সাথে যোগাযোগ করে আসলে তাঁবু প্রস্তুত পাবেন নচেৎ আপনাকে এসে বেশ খানিকটা সময় অপেক্ষা করতে হবে তাঁবু খাটানোর জন্য।

জীবনে একবার হলেও শ্নোনেংপেডেং-এর এই পরিবেশে ক্যাম্পিং সুযোগ মিস করা উচিত না, শিলং। জীবনে একবার হলেও শ্নোনেংপেডেং-এর এই পরিবেশে ক্যাম্পিং সুযোগ মিস করা উচিত না, শিলং। ছবি : বুকিং ডট কম

তাঁবু খাটানো হয়ে গেলে তাঁবুতে জিনিসপত্র রেখে ফ্রেশ হয়ে নিন। ওয়াশরুম তাঁবু থেকে ৩-৪ মিনিটের পথ। এরপর দ্রুত চলে যেন রাতের খাওয়ার জন্য। এই এলাকার দোকানপাট বেশ দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়। তাই বেশি দেরি করলে খাবার পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। মাঝরাতে জেগে থাকলে খাওয়ার জন্য চিপস-কেক-কোল্ড ড্রিংকস কিনে রাখতে পারেন সাথে। রাতে ঘুরে আসতে পারেন সাসপেনশন ব্রিজ দিয়ে। রাতের সৌন্দর্য আর দিনের সৌন্দর্য আলাদা। ব্রিজের ওপর থেকে তাঁবুতে জ্বলতে থাকা টিমটিমে আলো দেখে মনে হয় জোনাকি জ্বলছে নদীর পাড়ে। রাতে চেষ্টা করুন একটু আগে শুয়ে পরে ভোরে উঠে পড়তে। সূর্য উঠার পরপর যেই সৌন্দর্য তা বলে বুঝানো যাবে না। আলো আরেকটু বাড়লে সাসপেনশন ব্রিজের পাশের রাস্তা দিয়ে চলে যেতে পারবেন ভেতরের দিকে। নদী আর অসংখ্য পাথরের ছড়াছড়ি সেখানে। এখান থেকে ঘুরে চলে এসে সকালের নাস্তা করে নিন। নদীর পাড় থেকে উপরের দিকে উঠলে কিছু দোকান পাবেন সেখানে অল্প টাকায় সকালের নাস্তা করে নিতে পারবেন।

ছবি : কাম ক্রস দ্যা লাইন

এরপর নৌকা ভাড়া করে বের হয়ে যান শ্নোনেংপেডেং ঘুরতে। নৌকা আপনাকে নিয়ে যাবে শ্নোনেংপেডেং-এর শুরুর স্থানে। উপর থেকে নেমে আসা প্রবাহমান পানির স্রোত উপভোগ করতে পারবেন এখানে। ফেরার পথে রিভার ক্রসিং এক্সপেরিয়েন্স করতে পারবেন। সেই সাথে নদীতে গোসল করেও নিতে পারেন। শ্নোনেংপেডেং-এর পানিতে আপনি খালি চোখেই অনেকদূর দেখতে পারবেন।

ক্রাংসুরি ঝর্ণা। ছবি : সংগৃহীত

 বেশি দেরি না করে ব্যাগপত্র গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। এবারের যাত্রা ক্রাংসুরি। ঘন্টাখানেক লাগবে শ্নোনেংপেডেং থেকে ক্রাংসুরি যেতে। যেয়ে গাড়িতে আপনার জিনিসপত্র রেখে ৩০ রুপি দিয়ে লাইফ জ্যাকেট নিয়ে নেমে পড়ুন ক্রাংসুরিতে। একদম সুইমিং পুলের মত নীলপানি। ঝরনা থেকে পানি ঝরে পড়ছে সবসময়। হিন্দি সিনেমায় এই জায়গা অনেকবার দেখেছেন। ক্রাংসুরির পানি প্রচুর ঠান্ডা। পানিতে নামার পর কিছু সময়ের জন্য হাত-পা যেন জমে আসবে।

সেখান থেকে বের হয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে নিন। এবার রওনা দিন ডাউকি বাজারের দিকে। সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন যে শিলং থেকে যেসব গাড়ি এসেছে সেসব গাড়ির খোঁজ করুন। কারণ মেঘালয়ের গাড়িতে শিলং যেতে গেলে খরচ অনেক পরবে কিন্তু শিলং-এর গাড়ি শিলং-এ ফেরত যাবে তাই সেগুলো কম খরচে শিলং যাবে। শিলং-এ আপনার গন্তব্য পুলিশ বাজার। পুলিশ বাজার শিলং-এর সেন্ট্রাল পয়েন্ট। এখান থেকেই আপনার শিলং-এর যাবতীয় যাত্রা শুরু হবে। আমাদের পরবর্তী লেখায় শিলং-এর বিভিন্ন ট্যুরিস্ট স্পট সম্পর্কে জানানো হবে। দেশের বাইরে কোথাও বেড়াতে গেলে অবশ্যই এমন কিছু করবেন না যাতে আমাদের দেশের বদনাম হয়।