দক্ষিণ কোরিয়ার কাদা ছোড়াছুড়ির উৎসব মাড ফেস্টিভাল

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল: কাদার কসমেটিক গুণাবলী থেকে ঘটনাপ্রবাহে জাতীয় উৎসবে রূপ নেয় মাড ফেস্টিবাল


boryeong-mud-festival- মাড ফেস্টিভাল

দক্ষিণ কোরিয়ায় ত্বকের যত্নে একসময় কাদার ব্যবহার শুরু হয় বেশ আগে থেকেই; ছবি : কালচার ট্রিপ


বিচিত্র এই পৃথিবীর বিভিন্ন রীতিনীতি, আরও বৈচিত্র্যময় তার উৎসব আয়োজন। বিভিন্ন দেশ-কাল-স্থানভেদে রয়েছে হাজারো রকমের উৎসব উদযাপন। তেমনই এক উৎসব এই কাদা ছোড়াছুড়ি বা মাড ফেস্টিভাল (Mud Festival)। বাংলাদেশে কাদা ছোড়াছুড়িকে নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার করা হলেও দক্ষিণ কোরিয়াতে এই কাদা ছোড়াছুড়ি বা মাড উৎসব খুবই জনপ্রিয়।

ইতিহাস

পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দক্ষিণ কোরিয়ায় কাদার কসমেটিক গুণাবলী প্রসঙ্গে সচেতনতা বাড়াতেই শুরু হয়েছিল মাড ফেস্টিভাল। কাদামাটিতে থাকা প্রাকৃতিক খনিজ বহু আগে থেকে রূপচর্চার উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ১৯৯৮ সালে এই উৎসব রূপ নেয় বার্ষিক উৎসবে। কোরিয়ার পশ্চিম উপকূলে সিওল থেকে কয়েক ঘণ্টা দক্ষিণে ছুংছন নাম-দো প্রদেশের বোরিঅং শহরে দেছন বিচে এই উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন : বছর জুড়ে বুদাপেস্টের উৎসব

বলা হয়, দেছন বিচের এই কাদায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খনিজ উপাদান যা ত্বকের নান্দনিকতা এবং চর্মরোগ নিরাময়ের জন্য উপযোগী। প্রতিবছর হাজার হাজার আন্তর্জাতিক দর্শকদের স্বাগত জানানো এই উৎসবটি সাধারণত জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হয়।

boryeong-mud-festival- মাড ফেস্টিভালboryeong-mud-festival- মাড ফেস্টিভাল

বোরিঅং শহরে দেছন বিচে প্রায় দুই সপ্তাহ ব্যাপী কাদা ছোড়াছুড়ির উৎসব পালিত হয়; ছবি : আরএডি সিজন

উৎসব

গ্রীষ্মের গরম উপভোগের আয়োজন হিসেবে এই উৎসব কোরিয়ানদের নিকট বেশ আড়ম্বরের মাধ্যমেই পালিত হয়। তরুণ প্রজন্মের পাশাপাশি নানা বয়সের মানুষ মেতে ওঠে কাদা ছোড়াছুড়ির এই আয়োজনে। এর মাধ্যমে তারা আরও গভীরভাবে প্রকৃতির সান্নিধ্য লাভ করে। স্থানীয়দের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় দুই মিলিয়ন টুরিস্টদের নিকট অন্যতম আকর্ষণ এই উৎসব। প্রায় দুই সপ্তাহব্যাপী আয়োজিত এই আয়োজনে আরও রঙ বাড়ানোর জন্য যোগ করা হয় মাড স্লাইডিং, মাড রেসলিং, মাড রান, মাড কিং কনটেস্ট, মাড ফায়ারওয়ার্কস কনটেস্ট, প্রভৃতি। এসবের সমন্বয়ে এ ফেস্টিভ্যাল হয়ে উঠে দর্শনীয়।

আরও পড়ুন : মিউজিক্যাল বাকেট লিস্ট : ক্ল্যাসিকাল মিউজিকের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৫টি শহর

ইদানীংকালে এর পাশাপাশি যোগ হয়েছে কে-পপ পারফরমেন্স। এছাড়াও বয়সভেদে উৎসবের বিভিন্ন আয়োজনে অংশগ্রহণ করা যায়। বাচ্চাদের জন্য যেমন রয়েছে মাড বাথ, পেইন্টিং উইথ মাডের সুবিধা তেমনই বড়দের জন্যেও রয়েছে মাড ম্যাসাজ। মোটকথা উৎসবে আগত কারো পক্ষে কাদার সংস্পর্শে না এসে ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়।

boryeong-mud-festival- মাড ফেস্টিভাল

বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রায় দুই মিলিয়ন টুরিস্ট এই উৎসবে মেতে উঠে; ছবি : ট্রাভেল বেইজিং

যেভাবে যাওয়া যাবে

পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত এই দেছন বিচে যাওয়া যাবে দক্ষিণ কোরিয়ার যে কোন বড় শহর থেকে মাত্র দুই ঘণ্টার ড্রাইভিং এর মাধ্যমে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে রাজধানী সিউল থেকে বাসে যাওয়া। 'এক্সপ্রেস বাস টার্মিনাল' নামে এই বাস উৎসবের দিনগুলোতে রাজধানী সিউল থেকে দেছন বিচের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় প্রতি দিন। ২ ঘন্টা ৩০ মিনিটে দেছন পৌছায় এই বাস।

আরও পড়ুন : দেশে দেশে জমকালো কার্নিভাল উৎসব

বিভিন্ন দেশ থেকে আগত টুরিস্টদের নিকট ট্রেন বা অন্য যানবাহনের থেকে এই বাসই বেশি উপভোগ্য। তবে, এই উৎসবে অংশ গ্রহণ করার জন্য আগে থেকে নিবন্ধন করার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে খাবারের পাশাপাশি বাকি সব সুযোগ সুবিধাও মিলবে। উৎসবে অংশগ্রহণ করতে কোন খরচও গুনতে হবে না বরঞ্চ উপরি এসব আয়োজন উপভোগ করা যায় বিনামূল্যে।

বি:দ্র: যে কোন জায়গায় ঘুরতে গেলে সেখানকার অধিবাসীদের ক্ষতি হয় এমন কাজ করা যাবে না এবং পরিবেশ দূষিত হয় এমন কিছু থেকে বিরত থাকতে হবে।

জোহরা মহসীন   এস এম


Click Here To See More