বিশ্ব দরবারে মসজিদের জন্য খ্যাতি পেয়েছে বাংলাদেশ

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যাবলির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে মসজিদের গুরুত্ব ছিল অত্যধিক

 শাহ_মাহমুদ_মসজিদ মোঘল স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত শাহ মাহমুদ মসজিদ। ছবি : উইকিপিডিয়া

 বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের আগমন এবং বিস্তার লাভের সাথে সাথে মসজিদেরও প্রসার ঘতে থাকে। বাংলাদেশ ও এর ব্যাতিক্রম নয়। বাংলাদেশে মসজিদ নির্মাণের প্রসারণ সবচেয়ে বেশি হয়েছিল মুঘল শাসনামলে। মসজিদগুলো নামায আদায়ের স্থান হিসেবে ছাড়াও মাদ্রাসা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করার জন্যেও সমাদৃত ছিল। এখনও এই বিষয়গুলো পরিলক্ষিত হয়। স্থাপত্যশৈলির অনন্য নিদর্শনের দেখা মিলে বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মসজিদগুলোতে। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক মসজিদ ভ্রমণ পর্বের আজকের শেষ এই ধারাবাহিক পর্বটিতে জানা যাবে বিশেষ কয়েকটি মসজিদ সম্পর্কে।

সিংগাইর মসজিদ :

সিংগাইর মসজিদ ছবি : ভ্রমণ গাইড


বাগেরহাটে অবস্থিত ঐতিহাসিক মসজিদ সিংগাইর মসজিদ। এটি নির্মাণ করা হয়েছিল ১৫ শতকের দিকে। তবে এর সঠিক সময়কাল এখনও জানা যায়নি। এর দক্ষিণ-পশ্চিমে টেরাকোটা শিল্পের অনন্য ডিজাইন দেখতে পাওয়া যায়। এর উচ্চতা প্রায় ৩০ ফুট থেকে ৪০ ফুট পর্যন্ত। মসজিদটি সম্পূর্ণই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ইট দিয়ে। এখানে তিনটি দরজা রয়েছে যার মধ্যে মাঝের দরজাটি দৈর্ঘ্য-প্রস্থে সবথেকে বেশি। মসজিদের দেয়াল প্রায় ৭ ফুট পর্যন্ত লম্বা।

নয় গম্বুজ মসজিদ :

নয়-গম্বুজ-মসজিদ নয় গম্বুজ মসজিদ। ছবি : ভ্রমণ গাইড


নয় গম্বুজ মসজিদ বাগেরহাট ১৫ শতকের দিকে খানজাহান আলি নির্মাণ করেছিলেন মসজিদের নিকট রয়েছে জিন্দাপীর মসজিদ এবং মাজার। এখানে ফুলের টেরাকোটা ডিজাইন করে মেহরাবগুলো তৈরি করা হয়েছে। এখানে চারদিকে গোলাকৃতি টাওয়ার রয়েছে এবং মাঝখানে রয়েছে বড় গম্বুজ।

বড় শরীফপুর মসজিদ :

কুমিল্লা জেলা লাকসাম এ অবস্থিত বড় শরীফপুর মসজিদ। ১৭০৬ সাল থেকে ১৭৬০ সালে মোহাম্মদ হায়াত আবিদ করিম এটি নির্মাণ করেছিলেন। কোতোয়ালি মসজিদ নামে এটি বেশি পরিচিত। মসজিদট দেখতে প্রায় আয়তাকার। এখানে রয়েছে তিনটি খিলানযুক্ত দরজা। পশ্চিম দিকের দেয়ালে রয়েছে তিনটি মেহরাব। বাইরে চক্রাকারে বিভিন্ন নকশা দেখতে পাওয়া যায়।

হাজিগঞ্জ বড় মসজিদ :

হাজীগঞ্জ বড় মসজিদ হাজীগঞ্জ বড় মসজিদ। ছবি : সংগৃহীত

চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলায় বিখ্যাত এ মসজিদটি অবস্থিত। ১৯৩১ সালে এটি তৈরি করা হয়েছিল। চাঁদপুরের সবথেকে পুরাতন মসজিদ বলা হয় হাজিগঞ্জ বড় মসজিদকে। এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন হাজী মোহাম্মদ আলী পাটোয়ারি। মসজিদ নির্মাণের সময় এখানে কোনো ইটভাটা ছিল না। প্রথমে একটি ইটভাটা তৈরি করা হয়েছিল, পরবর্তীতে ইটভাটা থেকে তৈরিকৃত ইট নিয়ে এসে মসজিদটি তৈরি করা হয়। মসজিদটি দুই তলা, এখানে একটি ১২১ ফুট লম্বা মিনার রয়েছে।

চিনি মসজিদ :

দৃষ্টিনন্দন চিনি মসজিদ, নীলফমারি। ছবি : উইকিপিডিয়া

 নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিখ্যাত মসজিদ চিনি মসজিদ অবস্থিত। ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে হাজী বাকের আলী আহমেদ এটি নির্মাণ করেছিলেন। তখন বাংলাদেশের কোন সিরামিকস ফ্যাক্টরি ছিল না। তিনি কলকাতা থেকে সিরামিক এনে এই চিনি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটক চিনা মসজিদে ভ্রমণ করতে আসেন। এর ঐতিহাসিক নিদর্শন পর্যটকদের বেশ আকর্ষণ করে।