বিশ্বজুড়ে অদ্ভুত আর আজব সব বিয়ের রীতি

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল: সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যতায় বিশ্বজুড়ে বিয়েতে অদ্ভুত রীতি


বিয়ে মানে দুটি পরিবারের মিলন, দুটি আত্মার এক হয়ে যাওয়া। সকল দেশেই বিয়ে মানেই জাঁকজমক, হই-হুল্লোড় অনুষ্ঠান। বিয়েকে সফল করতে বিভিন্ন আচার পালন করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন ধর্মে বিয়ের আচারগুলো ভিন্ন-ভিন্ন হলেও এসব আচারের উদ্দেশ্য থাকে দুটি সম্পর্ককে শুদ্ধতম করে তোলা। বহুধর্মের বিয়ের নিজস্ব রীতিনীতি থাকে।

পৃথিবীজুড়ে বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যায় বিয়ের বিভিন্ন রকম নিয়ম৷ ধর্মীয় বা সামাজিক বিভিন্নতার কারণে সেসব নিয়মকে আমাদের কাছে কুসংস্কার বা অদ্ভুত নিয়ম মনে হতে পারে। বিশ্বজুড়ে বিয়েতে অদ্ভুত রীতিগুলো আজ তুলে ধরা হবে।

কান্নাকাটির অনুষ্ঠান

বিশ্বজুড়ে বিয়েতে অদ্ভুত রীতি

দীর্ঘ একমাস যাবত একের পর এক কান্নার আয়োজন চলে এখানে; ছবি : জিয়ানজিযাই ট্রাভেল ক্লাব


 হ্যাঁ, হাসির রোলের পরিবর্তে বিয়ের একমাস ধরে কান্নাকাটি করাই রীতি। এমন চিত্র দেখা যায় চীনের তুইজা সম্প্রদায়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে। বিয়ের ঠিক একমাস আগে থেকে বিয়ের কনেরা প্রতিদিন নিয়ম করে একঘণ্টা কান্নাকাটি করে। ১০ দিন পর এই কান্নার উৎসবে যোগ দেয় কনের মা। আরও ১০ দিন পর কান্নায় সামিল হয় কনের নানী। তারপর ধীরে ধীরে পরিবারের নারী সদস্যরাও এতে যুক্ত হন। তাদের এই বিলাপ কান্নার মতো শোনালেও আসলে কিন্তু তারা কান্না করে না। এসময় তারা একধরনের গান গায়, যার আওয়াজ কান্নার মতোই শোনায়।

আরও পড়ুন : ডগন গোত্র : মাস্ক ডান্সের জন্য আফ্রিকার যে জাতি সারাবিশ্বে বিখ্যাত

ব্যবহার করা যাবে না টয়লেট

উত্তর বরনিওর তাইডং উপজাতির মাঝে এই নিয়মটি দেখা যায়। বিয়ের পর তিনদিন তিনরাত নবদম্পতিকে আলাদা ঘরে আটকে রাখা হয়। ভাবছেন, ভালোই তো। একসাথে সময় কাটানোই তো স্বাভাবিক। তবে, এখানে অস্বাভাবিক ব্যাপারটি হলও নবদম্পতিকে একসাথে রাখতে তারা এতই বদ্ধপরিকর যে বাথরুম বা স্বাভাবিক কাজ করতেও বাইরে যেতে দিতে তারা নারাজ। তাই যদি উত্তর বরনিওতে বিয়ে করার ইচ্ছা থাকে ভেবে দেখবেন একবার যে, বাথরুমে না গিয়ে তিনদিন থাকতে পারবেন তো?

চুমুর অনুষ্ঠান

বিশ্বজুড়ে বিয়েতে অদ্ভুত রীতি

সুইডেনে মেনে চলা হয় বিয়ের এই রীতিটি; ছবি : দ্যা কিন্ট

চুম্বনের এই অনুষ্ঠানটি দেখা যায় সুইডেনে। আত্মীয়- স্বজনেরা বোধয় তাই বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য মুখিয়ে থাকে। কেনই বা হবে না? এমন সুযোগতো আসেও না সবসময়। আসলে নিয়মটি হলও বিয়ের অনুষ্ঠান ছেড়ে যদি পাত্র বা পাত্রীর কেউ একজন উঠে বাথরুমে যায় তবে বিপরীত ব্যক্তিটিকে অন্যদের জিম্মায় রেখে যেতে হবে। অর্থাৎ এসময় আত্মীয়-স্বজনেরা সেই ব্যক্তিটিকে চুমো খেতে পারবে। অর্থাৎ, যদি কনে বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে উঠে যায় তবে বাকিরা বরকে চুমো খেতে পারবে কোন বাধা ছাড়াই।

আরও পড়ুন : দানি উপজাতি : সভ্যতা থেকে জনবিচ্ছিন্ন সবচেয়ে আদিম জাতি

নববধূর আশীর্বাদ থুতু

কেনিয়ার মাসাই অঞ্চলে সাধারণত মেয়েদের তারচেয়ে বড় বয়সের পাত্রের সাথে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে যখন বধুবিদায়ের পালা আসে, তখন কনের বাবা আশীর্বাদস্বরূপ কনের মাথায় থুতু ছিটিয়ে থাকেন। কখনও কখনও বাবার সাথে দাদা বা অন্যান্য পুরুষ সদস্যরাও এই থুতু ছিটানোয় সামিল হয়ে থাকেন।

বিয়ের খাবার যখন আবর্জনা

বিশ্বজুড়ে বিয়েতে অদ্ভুত রীতি

আগত অতিথিদের খাবার এইভাবেই পরিবেশন করা হয় বর কনেকে; ছবি : দ্যা অর্ডার অব কেওস


ফ্রান্সে এই নিয়মটি দেখা যায়। বিয়েতে আগত অতিথিদের ফেলে দেয়া খাবার খেতে দেয়া হয় নবদম্পতিকে। আর সেই খাবার পরিবেশন করা হয় টয়লেটের সিটের আকারের কোন একটি পাত্রে। 

 ইন্দিরা বিশ্বাস   এস এম


Click Here To See More