হিমালয় আর সবুজের বন্ধুত্ব, নাইটিঙ্গেল পার্ক। ছবি : ট্রিপএডভাইজরপূর্ব হিমালয়ের অসাধারণ সব বরফ চূড়া আর অনিন্দ্য সুন্দর কাঞ্চনজঙ্ঘা দুটোই যদি একসাথে দেখা যায়, সেটাকে জীবনের সবচেয়ে সুন্দরতম অভিজ্ঞতা বললে অত্যুক্তি হবে না। দার্জিলিং-এ শ্রুবেরি নাইটিঙ্গেল পার্ক ঠিক সেই সুন্দরতম অভিজ্ঞতার যোগান দেবে আপনাকে।
পর্যটন মৌসুমে এখানে দেখতে পাবেন নেপালের ঐতিহ্যবাহী নাচসহ বিভিন্ন আয়োজন। ব্রিটিশ ভারতে স্যার থমাস টারটানের ব্যক্তিগত কাছারিঘর কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা স্রুবেরি নাইটিঙ্গেল পার্ক দার্জিলিং শহরের অন্যতম বড় এক আকর্ষণ।
অবস্থান :
দার্জিলিং রাজ ভবনের পেছনে জওহর পর্বত সড়কে অবস্থিত চৌরাস্তা মল থেকে মাত্র ১০ বা ১২ মিনিটের হাঁটাপথে অসাধারণ এই নাইটিঙ্গেল পার্কের অবস্থান।
ইতিহাস :
অসাধারণ এই জায়গার বলার মত এক ইতিহাসও আছে। ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে এই জায়গার নাম ছিল শ্রুবেরি। ১৯৩৪ সালে ভূমিকম্প সংঘটিত হলে এই এলাকাটি ধ্বংস হয়ে যায়। পরবর্তীতে সংস্কার কাজের সময় বেশ কিছু দিক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আসে। ধীরে ধীরে এটি হয়ে পড়ে ব্রিটিশ ভারতের অবস্থানরত বিলেতী নারীদের মিলিত হবার জায়গা।
এখানে এসে এক কাপ চা, আশপাশের প্রকৃতি আর বান্ধবীদের সাথে খোশগল্পে মেতে থাকতেন তারা। স্বাধীন ভারতে পঞ্চাশ আর ষাটের দশকে এটি হয়ে পড়ে বলিউড জগতের এক জনপ্রিয় শ্যুটিং স্পট। পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালে পশ্চিম্বঙ্গের গভর্নর এ.এল.ডিয়াস এক মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেন। যার ফলাফল আজকের এই পার্ক।
কীআছেপার্কে:পার্কের চারপাশে রয়েছে বসার স্থান। ছবি : ট্রিপইনভাইটস
চমৎকার কাজ করা গেট দিয়ে পার্কে প্রবেশ করার পরপরই প্রথমে আপনাকে মার্বেল পাথরে তৈরি সিড়ি পার হতে হবে। এরপরই আছে নুড়ি পাথরে তৈরি রাস্তা। পুরো পার্কটি ডিম্বাকৃতির। ভেতরে ঢুকে বামেই নজরে পরবে কাঁচে ঢাকা একটি জায়গা। একসময় যেটি খাবার রেস্তোরাঁ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। মাঝে সাময়িক বন্ধ থাকলেও যা খুব শীঘ্রই আবার খোলা হতে পারে। পার্কের একপাশে পাইন ও অন্যান্য বড় গাছের সারি আপনাকে যেমন মুগ্ধ করবে, তেমনই অন্যপাশের কাঞ্চনজঙ্ঘা আর হিমালয়ের অসাধারণ কিছু পাহাড় আপনাকে স্বাগত জানাবে।
পুরো পার্কের সীমানাজুড়েই অনেকগুলো বেঞ্চ আছে পর্যটকদের জন্য। আর পার্কের মাঝেও লাল, নীল, সবুজ, হলুদ টিনের নিচে রয়েছে বসবার ব্যবস্থা। সন্ধ্যা নেমে এলে জ্বালানো হয় রঙ বেরঙের বাতি। নাইটিঙ্গেল পার্ক তখন নিজেকে মেলে ধরে অন্য এক রূপে। পাহাড়, বন আর নানা রঙের আলোয় পৃথিবীর বুকেই তৈরি হয় স্বর্গরাজ্য।
পার্কের মাঝেই খালি জায়গায় আছে বৃত্তাকার একটি মঞ্চ। যেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালিত হয়। ভিআইপিদের জন্য আলাদা লাউঞ্জ থাকলেও সাধারণ দর্শকরা উন্মুক্ত প্রাঙ্গনেই উপভোগ করেন এসব অনুষ্ঠান।
পার্কের ডানদিকে একটি বিশাল শিবমূর্তি এবং একটি মন্দির রয়েছে। শিব মূর্তির উপর থেকে কৃত্রিম ঝরনা নিচের ছোট লেকে এসে পরে। যার সবটাই কৃত্রিম হলেও চোখ এবং মনকে তৃপ্ত করতে পারে।
ধর্মীয় আরাধনার জন্য নাইটিঙ্গেল পার্কে বিশাল শিবমূর্তি। ছবি : দার্জিলিংকখনখোলা:
স্রুবেরি নাইটিঙ্গেল পার্ক সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে। আপনি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে চাইলে বিকেল ৪ টায় আসতে পারেন। প্রবেশমূল্য মাত্র ২০ রূপি।