বাংলাদেশ থেকে সহজেই ঘুরে আসুন দার্জিলিং-সিকিম
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : দার্জিলিং ও সিকিম ভ্রমনের ক্ষেত্রে যাত্রা শুরুর সকল তথ্যসমূহ
ভ্রমণকারীদের কাছে অন্যতম পছন্দনীয় স্থান দার্জিলিং ও সিকিম। ছবি : নেচার উইংছ
বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের কাছে অন্যতম পছন্দনীয় স্থানগুলোর মধ্যে দার্জিলিং ও সিকিম অন্যতম। সারা বছরই বিশেষ করে শীতকালে এই স্থানগুলোতে ভ্রমণকারীদের ভিড় অনেক বেড়ে যায়। বাংলাদেশ থেকে খুব সহজেই দার্জিলিং-সিকিম ঘুরে আসা যায়। আমাদের এই লেখায় লো বাজেটে কীভাবে এসব জায়গায় ঘুরে আসতে পারেন তাই দেখানো হবে। ভিসা করার সময় বাংলাবান্ধা বা চ্যাংড়াবান্ধা যেকোনো একটা বর্ডার নিয়ে নিন। বাংলাবান্ধা বর্ডারে ভিড় তুলনামূলক কম ও শিলিগুড়ি থেকে কাছে হওয়ায় বাংলাবান্ধা দিয়ে যাওয়াতেই সুবিধা। ঢাকা থেকে হানিফের সরাসরি গাড়ি আছে একদম বর্ডারে যায়, এই গাড়িতে আপনি ফেরার টিকিটও করে রাখতে পারবেন যাতে দেশে ঢুকেই বাসে উঠে যেতে পারেন। এছাড়াও অন্যবাসে বা ট্রেনে পঞ্চগড় চলে আসবেন, সেখান থেকে বাংলাবান্ধা।
সিকিম বাস টার্মিনাল। ছবি : টুইটার
বর্ডার ৯টার দিকে খুলে। এর আগেই ইমিগ্রেশন থেকে ফ্রেশ হয়ে নিন। আশেপাশে ছোট কিছু দোকান আছে সেখানে নাস্তা করে নিতে পারেন। দেরি না করে ইমিগ্রেশনের কাজ সেরে ফেলুন কারণ ভারতীয় ইমিগ্রেশনে কিছু সময় বেশি লাগে। বাংলাদেশি ইমিগ্রেশন ও বিজিবি চেক করার পর হাঁটা শুরু করুন চাইলে অটোতেও যেতে পারেন। ছবিতে দেখা বিখ্যাত জিরো পয়েন্ট এখানেই। এই নো ম্যানস ল্যান্ড দিয়ে হেঁটে ঢুকে পরুন ভারতে। ভারতীয় বর্ডার গার্ড চেক করবে এরপর ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট জমা দিয়ে সিল মেরে নিন। এরপর বের হয়ে টাকা ভাংগিয়ে রুপি করে নেন। বর্ডারে রেট ভালো পাবেন।
সিকিমে ঢোকার অনুমতির জন্য অফিস। ছবি : সংগৃহীত
টিমে লোক বেশি থাকলে অটো নিয়ে নিন। ভাড়া ঠিক করে চলে যান শিলিগুড়ি এসএনটি'তে। সিকিমে যাওয়ার জন্য অনুমতি এখানেই নিয়ে নেন তাতে পরবর্তী রাংপো চেকপোস্টে সময় কম লাগবে। সিকিম ঘুরার জন্য ৮ জনের টিম হলে সবচেয়ে ভালো হয়। তাহলে খরচ কমে আসে ও সহজেই জিপ নিয়ে ঘুরা যায়। এসএনটি থেকে টিকিট কেটে বাসেও যেতে পারেন গ্যাংটক, তবে তাতে নিজের মত ঘুরার স্বাধীনতা থাকবে না। এসএনটি'তে ২-৩ জনকে কাজে রেখে বাকিরা চলে যান গাড়ি ঠিক করতে। এসএনটি-এর পাশে গ্যাংটকগামী গাড়ির ভাড়া বেশি চাইবে, এখান থেকে ম্যানেজ করতে পারলে তো ভালো নাহলে সময়ক্ষেপন না করে চলে যান পাশেই জলপাইগুড়ি স্টেশনে। ৩-৪ মিনিট লাগবে এসএনটি থেকে। সেখানে তুলনামূলক কমে গাড়ি পাবেন। চেষ্টা করবেন গ্যাংটকের গাড়ি ম্যানেজ করতে কারণ সেগুলো গ্যাংটকে ফেরত যাবেই তাই কমে পাবেন।
গ্যাংটক যেতে ৪ ঘন্টার মত সময় লাগে। দুপুরের আগেই রওনা দিতে পারলে যাওয়ার পথে ভালো কিছু স্পট পাবেন দেখার জন্য। ড্রাইভারকে আগেই বলবেন রাংপোতে থামতে ও ওয়েটিং চার্জ যাতে না নেয় সে ব্যাপারেও বলে নিবেন। আগেই পারমিশন নেয়া থাকায় বেশি সময় লাগবে না এখানে তবে আগে অনুমতি না নিলে এখান থেকেও নিতে পারেন। অবশ্যই অনুমতি নেয়ার কাগজ সামলিয়ে রাখবেন।
সিকিমের নৈসর্গিক সৌন্দর্য। ছবি : লনলি প্লানেট
গাড়ি আপনাকে নামিয়ে দিবে গ্যাংটকের দেউড়ালি স্ট্যান্ড। স্ট্যান্ড থেকে যেই রাস্তা নেমে গিয়েছে সেখান থেকে ট্যাক্সি নিয়ে নিন, উপর থেকে ট্যাক্সি নিলে দ্বিগুণ ভাড়া পড়বে। হোটেল আগেই ঠিক করা থাকলে সেখানকার লোকেশন বলবেন। হোটেল বুকিং না দিলেও আপনার বাজেটের মধ্যে হোটেলের তালিকা করে নেয়া ভালো তাহলে যেয়ে খুব বেশি পরিশ্রম হবে না। মাথায় রাখবেন গ্যাংটক শহর পুরোটাই পাহাড়ের ওপর তাই রাস্তায় হাঁটতে গেলে প্রায়ই অনেক চড়াই বেয়ে উঠতে হয় আবার ঢাল বেয়ে নামতে হয়। তাই অবশ্যই কাঁধের ব্যাগ ব্যবহার করবেন, ট্রলি পরিহার করাই উত্তম। ব্যাগ হালকা হলে অনেক সুবিধা পাবেন। হোটেল খুঁজে হোটেলে উঠে পড়ুন। গ্যাংটকও ৯ টার দিকে মোটামুটি বন্ধ হয়ে যায় তাই হোটেলে দেরি না করে বেরিয়ে পড়ুন রাতের খাবারের জন্য। পরবর্তী পর্বগুলোতে ট্যুর প্ল্যান সম্পর্কে বলা হবে। দেশের বাইরে কোথাও বেড়াতে গেলে অবশ্যই এমন কিছু করবেন না যাতে আমাদের দেশের বদনাম হয়।