অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও স্থাপত্যের দেশ আজারবাইজান; ছবি : ইউএস ডিপার্টম্যান্ট অব স্ট্যাট
ল্যান্ড অব ফায়ার নামে পরিচিত আজারবাইজান ককেশাস অঞ্চলের অত্যন্ত সুন্দর এক দেশ। ইউরোপ এবং এশিয়ার ক্রসরোড হিসেবে এই দেশটিতে রয়েছে আধুনিক স্থাপত্যের বেশ কিছু নিদর্শন। এছাড়াও ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অংশ হিসেবে মধ্যযুগীয় বেশ কিছু নিদর্শন বিদ্যমান।
বৈচিত্র্যময় ভ্রমণ অভিজ্ঞতার জন্য আজারবাইজান পুরো পৃথিবীর পর্যটকদের সারা বছর অভ্যর্থনা জানায় প্রতিনিয়ত। চলুন জেনে নেয়া যাক আজারবাইজান ভ্রমণের বিখ্যাত কিছু জায়গা সম্পর্কে।
ইচেরিশেহের, বাকু
ওয়াল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত বাকুর আইকনিক স্থাপত্য মেইডেন টাওয়ার; ছবি : ডব্লিউ কে এফ ডট নেট
পুরাতন এই শহরটি আজারবাইজানের রাজধানী বাকুর কেন্দ্রে অবস্থিত। শহরটির দেয়ালগুলো যেন প্রাচীন রহস্যের সাক্ষী। এখানে অবস্থিত শিরভানশাহ রাজপ্রাসাদ এবং মেইডেন টাওয়ার ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত যা পর্যটকেরা মিস করেন না। প্রাসাদটি বাইজেন্টাইন স্থাপত্যকর্মের এক অপরূপ নিদর্শন।
এছাড়াও প্রাসাদটির অন্তর্গত বিভিন্ন সময়ে নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনা এশিয়, মধ্যযুগীয় এবং ইসলামীয় স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন প্রকাশ করে। মেইডেন টাওয়ার এখানের আরেক রহস্য। সিলিন্ডার আকৃতির উঁচু এই টাওয়ারটির স্থাপনার সঠিক দিনক্ষণ জানা যায় না। কিন্তু বাকুর আইকনিক স্থাপনার মাঝে এটি অন্যতম। এখানে নির্মিত জাদুঘর বাকুর ইতিহাস পর্যটকদের কাছে তুলে ধরেছে। প্রতি বছর ইন্টারন্যাশনাল আর্ট ফেস্টিভাল এখানেই অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
সবুজ গাছগাছালি ও পাহাড়ে ঘেরা ইরানের সীমান্তবর্তী আস্তারা শহর; ছবি : আইটিনারি ডট কম
ইরানের সীমান্তবর্তী আস্তারা আজারবাইজানের সব চেয়ে সুন্দর শহর। সবুজ বনভূমি এবং অতিকায় বৃহৎ পাহাড় একে করেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ। স্থানীয় রেস্তরা এবং ক্যাফে পর্যটকদের স্থানীয় খাবারের অভিজ্ঞতা দিয়ে থাকে।
এখানে অবস্থিত জাদুঘরে প্রাচীন বেশ কিছু নিদর্শন প্রদর্শিত রয়েছে। এখানে প্রদর্শিত কিছু মূর্তি, কয়েন এবং অন্যান্য নিদর্শন প্রায় ২,০০০ বছরের পুরনো। এছাড়াও প্রাচীন টাওয়ার, মসজিদ এই শহরটির সৌন্দর্য অনেকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
শেকি
ককেশাস পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিৎ প্রাচীন শেকি শহর; ছবি : আজার নিউজ ডট কম
আজারবাইজানের দক্ষিণে ককেশাস পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই শহরটি প্রায় ৬০০০০ বছরের পুরনো। ছোট এই শহরটি সিল্ক, টেক্সটাইল এবং এম্ব্রয়েডের জন্য বিখ্যাত। এখানে অবস্থিত শেকি খান প্রাসাদ ২০১৯ সালে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৭৬২ সালে নির্মিত এই শেকি খান প্রাসাদ পর্যটকদের নিকট অত্যন্ত জনপ্রিয়।
কুদালচায় নদীর তীরে অবস্থিত কুবা শহর; ছবি : আজারবাইজান ট্যুর ডট কম
দেশটির উত্তরে অবস্থিত কুবা আজারবাইজান সংস্কৃতির অন্যতম ধারক। প্রাচীন পাহারী এই শহরটি কুদালচায় নদীর তীরে অবস্থিত। পাহাড় এবং নদীর সংস্পর্শে এই কুবা আজারবাইজানের সুন্দর শহরের মাঝে অন্যতম। এখানে প্রাচীন ইহুদী গ্রামেরও দেখা মেলে। কোলাহলময় শহুরে জীবন থেকে ছুটি নিয়ে অনেকেই এখানে অবকাশ যাপন করে থাকেন।
কাস্পিয়ান সী
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় লেক কাস্পিয়ান সী; ছবি : এনপিআর ডট ওআরজি
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় লেক কাস্পিয়ান সী আজারবাইজানের অন্যতম বিখ্যাত টুরিস্ট ডেসটিনেশন। ৫০০ কিলোমিটারের অধিক এই লেকটি ইরান সীমান্ত এবং উত্তরে দাগেস্থান সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে অবস্থিত রিসোর্টসমুহ অসংখ্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
হাজার বছর পূর্বে ভূমিকম্প হতে উৎপত্তি গয়গল লেক; ছবি : আইটিনারি ডট কম
আজারবাইজানের আরেকটি সুন্দর জায়গা হচ্ছে গয়গল লেক। ১,০০০ বছর পূর্বের ভূমিকম্প থেকে এই লেকের উৎপত্তি। নীল পানির এই লেকসমূহ জনপ্রিয় টুরিস্ট ডেসটিনেশনের মাঝে অন্যতম। মূলত ১৯টি লেকের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই গয়গল এলাকা একত্রে লেক গয়গল নামে পরিচিত। ছবি তোলার জন্য এখানের বেশ কিছু জায়গা অত্যন্ত জনপ্রিয়।
আজারবাইজান একিই সাথে প্রাচীন এবং আধুনিকতার বেশ সুন্দর এক সংমিশ্রণ। পর্যটক সমৃদ্ধ এই স্থানসমূহ আপনার আজারবাইজান ভ্রমণে বেশ সুন্দর এক অভিজ্ঞতা যোগ করবে।