টিবিডি ইন্টারভিউ উইকলি : 'পর্যটন সেক্টরকে রাষ্ট্রের অন্য সেক্টরের মতো গুরুত্ব দিতে হবে'

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : গত বছর পর্যটনের জিডিপি'তে কন্ট্রিবিউশন ৭৭,৩০০ ও ফরেন কারেন্সি আয় ২,৬০০ কোটি টাকা




মোখলেছুর রহমান, দেশের পর্যটনশিল্পের একজন স্বনামধন্য গবেষক, উদ্যোক্তা, সংগঠক এবং লেখক। তিনি বাংলাদেশ ট্যুরিজম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সম্মিলিত পর্যটন জোটের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি বিষয়ে পাঠ্যপুস্তক লেখা, ট্রেনিং মডিউল, পর্যটন বিষয়ে রাষ্ট্রীয় নীতিমালা প্রণয়নে পরামর্শদানসহ পর্যটন উন্নয়নে যাবতীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত আছেন মোখলেছুর রহমান।

পর্যটনশিল্পকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান, পর্যটন গবেষণার গুরুত্ব উন্মোচন এবং উন্নয়ন পর্যটন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিরলস কাজ করে চলা এই গবেষকের মুখোমুখি হয়েছে ট্রাভেল বাংলাদেশ। কথা হচ্ছে দেশের সার্বিক পর্যটন উন্নয়ন ও আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে।

ট্রাভেল বাংলাদেশ : বিশ্ব মহামারীর করোনা-কালীন সময় কীভাবে কাটছে?

মোখলেছুর রহমান : অনেক কাজের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পর্যটন নিয়ে নানা ধরনের কাজ করছি। সম্প্রতি আমরা একটা সম্মিলিত জোট গঠন করেছি। এই জোটে ৬ দফা প্রণয়ন করেছি। ছয় দফা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট যতগুলো মন্ত্রণালয় আছে, প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলেছি, বৈঠক করেছি। এবং সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি।




আন্তর্জাতিক আয়োজনে বক্তৃতা দিচ্ছেন মোখলেছুর রহমান ছবিঃ সংগৃহীত


ট্রাভেল বাংলাদেশ : পর্যটন বিষয়ে ছয় দফাগুলো বলুন...

মোখলেছুর রহমান : পর্যটন-উন্নয়নে ছয় দফার মধ্যে রয়েছে, ১. সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে পর্যটন বিস্তারের ক্ষেত্রগুলোকে চিহ্নিত করতে হবে,

২. নারী-পুরুষ উভয়কে প্রত্যক্ষভাবে পর্যটনের সাথে যুক্ত করতে হবে,

৩. দেশে একটি কার্যকর ও টেকসই পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে,

৪. পর্যটনে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি, জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে,

৫. পর্যটন রপ্তানির জন্য উৎস দেশ অনুসন্ধান ও সেসব দেশে রপ্তানি নিশ্চিত করতে হবে,

৬. বাংলাদেশকে একটি পর্যটনবান্ধব রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে হবে। এটি নিয়ে আমরা একটি কংগ্রেসের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। ওইদিন আমরা পর্যটনবান্ধব রাষ্ট্রের রূপরেখাও উন্মোচন করব।

আরও জানতে : ‘পর্যটন শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি সহযোগিতার বিকল্প নেই’

ট্রাভেল বাংলাদেশ : আপনি পড়ালেখা করেছেন কৃষি বিষয়ে। কিন্তু পর্যটনে আগ্রহী হলেন কীভাবে?

মোখলেছুর রহমান : আসলে ভুল করে চলে আসার গল্প। আমি একসময় ব্যাংক জব করতাম। ১৯৯৭ সালের দিকে ঢাকায় আসি। ঢাকায় আসার পর আমি দুই মাসের মধ্যে টের পেলাম যে, আমার সংসার চলছে না। তখন আমার একটি অতিরিক্ত কাজের প্রয়োজন হয়ে পড়ল। কিন্তু কি কাজ করবো আমি জানি না। অবশেষে আমাকে আমার এক বন্ধুজন বললেন যে, আপনি পর্যটন নিয়ে কাজ করতে পারেন। সেই থেকে কোনো কিছু না বুঝেই আমি একজন ট্যুর অপারেটর হিসেবে কাজ শুরু করি।

১৯৯৭ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যটন ট্যুর অপারেট করেছি দেশ-বিদেশে। সেসময় বাংলাদেশে আমি একজন লিডিং ট্যুর অপারেটর ছিলাম। ২০০৫ সালে এসে আমার মনে হলো যে, মানুষ নানারকমভাবে বলছে, এটি অনেক বড় শিল্প। কিন্তু আমি কোনোভাবে বুঝতে পারছিলাম না, এর মধ্যে আসলে বিশালতা কোথায়। ২০০৫ সাল থেকে ২০০৭ পর্যন্ত আমার নিজের সাথে প্রচুর লড়াই করতে হয়েছে। ২০০৭ সালে পর্যটন বুঝার ও জানার জন্য আমি চাকরি ছেড়ে দিই। তারপর থেকে আমি ঘরে পড়তে বসি এবং পর্যটন নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা লেখাপড়া করেছি।




পাঠ্যবই লিখেছেন মোখলেছুর রহমান ছবিঃ সংগৃহীত


এরপর আমি পর্যটন নিয়ে ধীরে ধীরে মুখ খুলতে শুরু করি। পর্যটন নিয়ে আমার অধ্যয়নের সময় কম-বেশি প্রায় ১৮ হাজার ঘন্টা। এরই মধ্যে পৃথিবীর প্রচুর স্কলারের সাথে আমার কথা হয়েছে, যোগাযোগ হয়েছে। আমাকে অনেক জায়গায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমি অনেক জায়গায় পেপার প্রেজেন্টেশন করেছি। সেখান থেকে আমার একধরনের বিশ্ব পর্যটনকে বোঝার সুযোগ ও সৌভাগ্য হয়েছে।  পরে পর্যটন বিষয় অন্যদেরকে শেখানো যায় কিনা তা ভেবে কাজ শুরু করি। এই বিষয়ে বিভিন্ন জায়গায় প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করি। ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রায় দেড় বছর শিক্ষকতা করেছি। এরই মধ্যে কিছু একাডেমিক বই লিখেছি। এইচএসসি'তে ট্যুরিজমের পাঠ্যবই দুটি আমার লেখা।

ইউনিভার্সিটির ট্যুরিজম পড়ালেখায় পাঠ্যবই লিখেছি। টুরিস্ট পুলিশের ট্রেনিং ম্যানুয়াল লিখে দিয়েছি। ইয়ুথ ট্যুরিজমকে কেন্দ্র করে পলিসি বই লিখে দিয়েছি এবং গত বইমেলায় 'পর্যটন ব্যবস্থাপনায় সুরক্ষা ও নিরাপত্তা'-নামে আমার একটা বই এসেছে। এখন লিখছি, ছোটদের পর্যটন বই। ছোটদের পর্যটন শেখানোর জন্য এটা লিখছি। এবার আমি একটি নতুন বিষয়ের দিকে যাচ্ছি, সেটি হলো একটি পর্যটনবান্ধব রাষ্ট্রের রূপরেখা প্রণয়ন। সে বিষয়ে ধীরে ধীরে একটু লেখার চেষ্টা করছি। আগামীতে যে কংগ্রেস আয়োজন করতে যাচ্ছি সেখানে রূপরেখা উন্মোচন হবে। বাংলা ও ইংরেজিতে বই আকারে প্রকাশ করা হবে। পরবর্তীতে সেটা পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত হতে পারে। আমরা বাংলাদেশ থেকে পৃথিবীর মানুষকে বলতে চাই যে, পৃথিবীতে যদি একটি পর্যটনবান্ধব রাষ্ট্র কায়েম করতে হয়, তাহলে এই রূপরেখা মেনেই কায়েম করা উচিত অথবা এই রূপরেখার ভেতর দিয়েই একটি পর্যটনবান্ধব রাষ্ট্রের উৎপত্তি ও বিকাশ হতে পারে।

আরও জানতে : ‘আমার বিশ্বাস, পর্যটনের সকল সংকট আমরা কাটিয়ে উঠতে পারব’

ট্রাভেল বাংলাদেশ : আপনার প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ট্যুরিজম ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার কথা শুনতে চাই। কোন ধরনের কাজ করছেন?

মোখলেছুর রহমান : আমি ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)-এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যদের মধ্যে একজন। এই প্রতিষ্ঠানটি রেজিস্ট্রেশন পায় ২০০২ সালে। শুরু থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত আমি দেখলাম, টোয়াব-এ থেকে বাস্তবে পর্যটনকে কেন্দ্র করে আমি কোনো কাজ করতে পারছি না। টোয়াব মূলত একটি বাণিজ্যিক সংগঠন। ট্যুর অপারেটর সদস্যদের নানা রকম সুযোগ, সুবিধাগুলো নিয়ে কাজ করে। কিন্তু আমার মাথায় ততদিনে পর্যটনের উন্নয়ন ভাবনাগুলো চলে এসেছে।




চাইনিজ অ্যাম্বাসীর সাথে মিটিংয়ে মোখলেছুর রহমান ছবিঃ সংগৃহীত


এমতাবস্থার প্রেক্ষিতে আমি ২০০৯ সালে এসে ১৯৬০-এর সোসাইটির রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের আওতায় জয়েন স্টক থেকে বাংলাদেশ ট্যুরিজম ফাউন্ডেশন রেজিস্ট্রেশন করি। এটি একটি নন বিজনেস প্রতিষ্ঠান। এখান থেকে যেকোনো পর্যটন উন্নয়নের জন্য কাজ করা যায়। নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মশালা, তরুণদের প্রশিক্ষণ প্রদান পর্যটন উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক উদ্যোগ ইত্যাদি বিষয়ে কাজ করি আমরা। ট্যুরিজম এখন পর্যন্ত শিল্পের মর্যাদা পায়নি। আমরা ২০০৯ সালে এই ফাউন্ডেশন রেজিস্ট্রেশন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রস্তাব রাখি যে, ট্যুরিজমকে এসএমই ঋণের আওতাভুক্ত করা হোক। তখন গভর্নর ছিলেন ড. আতিউর রহমান।

২০০৯ সালের নভেম্বর মাসে ট্যুরিজমকে এসএমই খাতের অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং ২০১৯ সালে তারা এসএমই-এর মধ্যে ৫ নাম্বারে জায়গা দেয়। কিন্তু অসুবিধা হলো, এর সমস্ত উপখাত ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডগুলোকে চিহ্নিত করতে না পারার জন্য ব্যাংক লোন দিতে পারছিল না। ট্যুরিজমের এরিয়া কতটুকু, কোনটাকে আওতাভুক্ত বলা হবে, তা চিহ্নিত করা যাচ্ছিল না।  সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরের সাথে পর্যটন জোট মিটিংয়ে বসলে তারা আমাদেরকে অনুরোধ করেন যে, আপনারা এসমস্ত বিষয়ে যদি বিস্তারিত তথ্য দেন, তখন আমরা এসএমই লোনের একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন তৈরি করতে পারব।

সেই মোতাবেক আমরা ১০টি উপখাত ও ১০টি উপখাতের আওতায় প্রায় ১২৪টি বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডকে চিহ্নিত করে দুটি পত্র দিয়েছি, একটি পর্যটন বোর্ডে দিয়েছি, যেটি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে যাবে, অন্যটি সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পাঠিয়েছি। এই যে বড় বড় কাজ, এই জাতীয় কাজের সাথে আমরা আছি এবং আমরা মনে করি যে, পর্যটনের জন্য কাউকে না কাউকে কাজ করতে হবে।

ট্রাভেল বাংলাদেশ : করোনা মহামারি সংকট মোকাবিলায় আপনাদের সংগঠন থেকে কোনো ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন?

মোখলেছুর রহমান : করোনা-কালীন রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো মানুষকে রক্ষা করা ও যত্ন নেয়া। আমরা যেহেতু পর্যটন সেক্টর নিয়ে কাজ করি, এই সেক্টরের সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য আমরা আমাদের চিন্তা ও পরিকল্পনাগুলো সরকারকে ও মানুষকে বলে যাচ্ছি। করোনার আগের জীবনে আর ফেরা যাবে না। নতুন ধরনের একটা জীবনযাত্রার দিকে যাচ্ছে মানুষ। সেটাকে বলা হচ্ছে নিউ নর্মাল। আমরা নিউ নর্মাল অবস্থানে যখন যাবো, তখন পর্যটন কীভাবে চলবে তার জন্য আমাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করা জরুরি।

যেমন ট্যুরিজম ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের কিছু বিষয় নির্ধারণ করা উচিত। ওসময় এসে মানুষের চাহিদা কি হবে এবং পর্যটন সেবাগুলোর সাথে স্বাস্থ্যসেবার সম্পৃক্ততা কোথায় দাঁড়াবে, পর্যটনের সেবা-কর্মীদের সে জায়গায় কীভাবে সম্পৃক্ত করা হবে; প্রভৃতি বিষয় গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে। সবচেয়ে বড় যে জায়গাটি সেটা হলো, এই সেক্টরে বাংলাদেশে ৪০ লাখ কর্মী কাজ করেন। এ কর্মীরা যেন কোনো অবস্থাতেই সেক্টর ছেড়ে চলে না যায় তার ব্যবস্থা করতে হবে। এটা আমরা সতর্কতার সাথে দেখছি। আমরা রাষ্ট্রকে ও সরকারের বিভিন্ন আঙ্গিকে এই বিষয়ে বলছি। কারণ এই মানুষগুলো কম, বেশি দক্ষ ও আধা-দক্ষ। এরা চলে গেলে দক্ষ মানুষ হারাবো।




মাইটিভি'র ট্যুরিজম বিষয়ক আয়োজন 'মাই ট্যুরিজেম'-এ মোখলেছুর রহমান ছবিঃ সংগৃহীত


অন্য সেক্টরের শ্রমিকদের সাথে পর্যটন সেক্টরের শ্রমিকদের পার্থক্য আছে। এখানকার শ্রম শুধু কায়িক শ্রম না। এখানে সেবা দিতে গেলে তার কতগুলো সফট স্কিলস জানতে হয়। কিছু ম্যানার, আচরণ জানতে হয়। এগুলো জেনে তারপর এই সেক্টরে কাজের জন্য প্রবেশ করা যায়। আমরা আর একটি বিষয়ের দিকে নজর দিচ্ছি। এটা এখনও একটা ডিজঅর্গানাইজ সেক্টর। আমাদের এই সেক্টরের শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য কোনো বেতন কাঠামো নেই। সরকারের পক্ষ থেকে এখানকার শ্রমিকদের নিয়োগ, শাস্তি, পুরস্কারের কোনো প্রকার কাঠামো তৈরি করা হয়নি। তার জন্য আমরা আমাদের প্রচেষ্টায় এরই মধ্যে শ্রমিক ইউনিয়ন তৈরি করেছি। শ্রমিক ইউনিয়নরা একত্রিত হয়ে তারা একটা ফেডারেশন করেছে।

এই ফেডারেশন আন্দোলন করছে, আমরা সবাই এতে একাত্মতা প্রকাশ করেছি। এরা যখন রেজিস্ট্রেশন পাবে তখন আমরা শ্রম মন্ত্রণালয়ের কাছে গিয়ে দাবি জানাবো, এবার পর্যটনের জন্য একটি ওয়েজবোর্ড গঠন করা হোক। এটি পরিপূর্ণ করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি যে, আজকে গার্মেন্টস সেক্টরের জন্য যে ব্যবস্থা, সেখানে যেমন : ৪০ লাখ শ্রমিক আমাদের। এখানেও ৪০ লাখ শ্রমিক। আমাদের কাজগুলো তাদের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ৭৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা আমরা গত বছর জিডিপি'তে কন্ট্রিবিউট করেছি। ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ফরেন কারেন্সি আয় করেছি। অর্থনীতিতে আমাদের কন্ট্রিবিউশন কম না।

এটির জন্য যারা কাজ করছেন তাদের অন্তত বেঁচে থাকার অধিকার আছে। আমরা এই আন্দোলনটা করছি। এতে করে আমাদের শ্রমিক কর্মচারীরা বাঁচার সুযোগ পাবে। কোভিড-কালীন বা অন্য যেকোনো দুর্যোগে রাষ্ট্রের দায়িত্ব মানুষকে রক্ষা করা। এখানেও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সেটি রাষ্ট্র সাধ্য মত চেষ্টা করছে। আমরা আশা করছি যে, এই সেক্টরটা রাষ্ট্রের অন্য সেক্টরের মতোই, গুরুত্ব পাবে, আমরা বেশি কিছু চাই না। অন্যদের মতোই এদের প্রতি একটু নজর দেওয়া হোক। কারণ এরা আমাদেরই মানুষ।

ট্রাভেল বাংলাদেশ : এই সেক্টরে সরকারি-বেসরকারিভাবে গবেষণার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কোনো উদ্যোগ কী আছে?

মোখলেছুর রহমান : গবেষণা হতে পারে দু-রকমের। প্রথমত, গবেষণার আলাদা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা। আর হলো বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করা। কৃষিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গবেষণা হয়। কৃষিকে কেন্দ্র করে বড় বড় গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, যেমন কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট, ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট, গম গবেষণা ইন্সটিটিউট ইত্যাদি। এই প্রতিষ্ঠান যদি গড়ে না উঠতো বাংলাদেশের কৃষির এতটা অগ্রগতি হতো না। আমাদেরও ৬ দফার মধ্যে একটা দাবি হলো বাংলাদেশে জাতীয় ভিত্তিক একটি পর্যটন গবেষণা ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হোক।




সাংবাদিকদের সাথে মোখলেছুর রহমান ছবিঃ সংগৃহীত


আমরা বলছি, এখানে বঙ্গবন্ধু পর্যটন গবেষণা ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে, যেটি শুধু গবেষণার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এখন ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্যুরিজম পড়ানো হচ্ছে। ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা বলেছি যে, আপনারাও ধীরে ধীরে গবেষণায় এগিয়ে আসুন। এখানে হয়তো আর ৫/১০ বছর সময় লাগবে, ধীরে ধীরে গবেষণায় এগিয়ে আসবে। এই দুটি জায়গায় যখন গবেষণা কাজ হবে, তখন অনেকগুলো বিষয় সমাধান করতে পারবো। কারণ গবেষণার মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিত করা হয় এবং তা সমাধানের রাস্তা তৈরি করা হয়। এটি দরকার এখন। এটি ছাড়া পর্যটন কিন্তু ডালপালা মেলবে না।

আরও জানতে : নারীরা আরও বেশি ভ্রমণ করা ও বিশ্বটাকে জানার সুযোগ পাবে এই স্বপ্ন দেখি

ট্রাভেল বাংলাদেশ : মহামারির পর নতুন একটি পৃথিবী চলে আসবে। এখানে পর্যটনের ক্ষেত্রে কোন ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে এবং আসা উচিত বলে মনে করেন?

মোখলেছুর রহমান : এখানে কিছু কিছু পর্যটন থাকবে না। যেমন : লাক্সারি ট্যুরিজম, কর্পোরেট ট্যুরিজম প্রভৃতিতে ঘাটতি দেখা দেবে। কিন্তু কমিউনিটি ট্যুরিজম বেড়ে যাবে। কারণ ট্যুরিজম হলো লাইফ ওরিয়েন্টেড একটি সেক্টর। জীবনের সঙ্গে সব কাজই পর্যটন। ঘরের বাইরে গিয়ে আমরা যা করি তার সবই পর্যটন । মানুষ কিন্তু ঘরের বাইরে যাবে। পর্যটন বন্ধ হয়ে গেলে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে, পর্যটন বন্ধ হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাবে, পর্যটন বন্ধ হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষা বন্ধ হয়ে যাবে। সুতরাং একারণে পর্যটন কোনোদিন বন্ধ হবে না।

আরও জানতে : এয়ারলাইন্সের খরচ বেড়ে গেলেও বিমানের ভাড়া বৃদ্ধি করা সম্ভব হচ্ছে না!

তাছাড়া, জীবনের উপাদান এবং পর্যটনের উপাদানগুলো অভিন্ন এবং একারণের জন্য জীবনজুড়ে পর্যটন। এর বাইরে কিন্তু আমাদের যাবার সুযোগ নেই। অন্য একটি বিষয় না থাকলেও চলতে পারে। কিন্তু পর্যটন ছাড়া চলবে না। ২০০০ সালে আম্মান ঘোষণায় বলা হয়, পর্যটন হলো মানুষের ফান্ডামেন্টাল রাইটস। ২০০০ সালের দাবিকে আমরা আজকে ২০২০ সালে পরিষ্কারভাবে দেখতে পাচ্ছি। ২০২১ সালে কনফারেন্সে আমরা যে ঢাকা ঘোষণা দেবো তার ভিত্তি কিন্তু একই।

এই ঘোষণা দেয়ার জন্য তিনজন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন পণ্ডিতকে নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমার সৌভাগ্য যে, এই কমিটির আমি আহ্বায়ক হিসেবে কাজ করছি। সুতরাং, এই যে আগামীতে কতগুলো ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে তার জন্য আগামীর পৃথিবীতে পর্যটন রূপ পাল্টাবে। এটি বন্ধ হবে না, নষ্ট হবে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী ধরতে গেলে, ২০২৫ সাল পর্যন্ত কোভিড-১৯ থাকতে পারে, তাই ২০২৫-এর পৃথিবী কি হবে আমরা সেটা নিয়ে কাজ করছি। পৃথিবীতে যতদিন মানুষ থাকবে, ততদিন পর্যটন থাকবে।  

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : সাইফুল্লাহ সাদেক   এস এম