এক দিনের শিবপুর ভ্রমণে যা যা দেখবেন

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : নরসিংদী শিবপুর-এর টুঙ্গিরটেক বৌদ্ধমন্দির এবং ধুপিরটেক কামরাবোর পদ্ম মন্দির



শিবপুর নরসিংদী

ছবি : সংগৃহীত


শিবপুর। বেশ কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নিয়ে এলাকাটি যেন ইতিহাসের ছোট এক মিলনমেলা। প্রত্ন তথা প্রাচীন নিদর্শনসমূহ বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। আর এই সমৃদ্ধ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হাজার বছরের ইতিহাস জানার অনন্য মাধ্যম হিসেবে পরিগণিত। নরসিংদী ভ্রমণের বিশেষ এক আকর্ষণ হতে পারে শিবপুর উপজেলার টুঙ্গিরটেক বৌদ্ধমন্দির এবং ধুপিরটেক কামড়াবোর পদ্ম মন্দির। একই সাথে একদিনের ভ্রমন এবং ইতিহাস জানার জন্য শিবপুর আদর্শ এক জায়গা।


১৫০০ বছরের পুরান টুঙ্গিরটেক মন্দির

টুঙ্গিরটেক মন্দির অবস্থিত উয়ারী-বটেশ্বর মূল স্থাপনা থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে শিবপুর উপজেলার যোশর ইউনিয়নের টুঙ্গিরটেক গ্রামে।  প্রত্নতাত্ত্বিক খননের ফলে বৌদ্ধ মন্দিরের সন্ধান পাওয়া যায়। প্রত্নতত্ত্ববিদরা ধারনা অনুযায়ী এই মন্দিরটি ১৫০০ বছরের পুরান হতে পারে। সাধারনত বৌদ্ধ মন্দির গুলো বিহার কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে।


শিবপুর নরসিংদী

ছবি : সংগৃহীত


 প্রত্নতত্ত্ববিদরা এখনও চেষ্টা করে যাচ্ছেন মন্দির সংলগ্ন বিহারটি আবিষ্কার করার জন্য। মনে করা হচ্ছে এটি বাংলাদেশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের আদি বসবাসের স্থান। যা খুঁজে পেলে বৌদ্ধ সভ্যতার একটি নতুন মাইলফলক স্পর্শ করবে। টঙ্গিরটেকে ধারাবাহিক খননে অলংকরন সমৃদ্ধ বৌদ্ধমন্দির, গর্ভগৃহ, সীমানাপ্রাচীরের সন্ধান পাওয়া গেছে। সুশোভিত প্রবেশ পথ ছাড়াও তিনটি স্তূপের রয়েছে মন্দির সংলগ্ন এলাকায় যা ১২০০ বছর আগের বলে ধারণা করছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। প্রত্নতত্ত্ববিদরা ২০১১ সালে এই জায়গাটি সম্পর্কে অবগত হন এবং ২০১২ সাল থেকে এটার খননকার্য শুরু হয়। বর্তমানে এখানে এক জাদুঘর নির্মানের প্রস্তাবনে রয়েছে। এছাড়াও একই উপজেলায় অবস্থিত টুঙ্গিরটেক প্রাচীন বৌদ্ধমন্দিরের পাশাপাশি আপনি ধুপিরটেক কামরাবোর পদ্ম মন্দিরও ঘুরে আসতে পারেন। এই বৌদ্ধ পদ্ম মন্দিরটি স্থাপত্যের বৈশিষ্ট দেখে দৈব খড়গের স্বাক্ষর অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে ৭ম দশকের বলে ধারণা করা হয়।


শিবপুর নরসিংদী

ছবি : সংগৃহীত


এটি জয়নগর ইউনিয়নের কামরাবর ধূপিরটেক গ্রামে অবস্থিত। প্রায় ২৫০০ বছর আগে এখানে বৌদ্ধদের পদ্ম নামক মন্দির ছিলো বলে মনে করা হয়। এখানে যা পাওয়া গেছে তার মাঝে ৭০ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্য এবং ৭০ সেন্টিমিটার প্রস্থবিশিষ্ট ইটের দেয়াল এবং দেয়ালের পূর্ব দিকে ৩ ফুট দূরে বারান্দার মতো আরেকটি দেয়াল এবং দুই দিকে দুটি দরজার মতো। এ থেকে ধারণা করা হয়, পুরোহিত একদিক দিয়ে ঢুকে অন্য দরজা দিয়ে বের হতেন। এছাড়াও এই অঞ্চলে প্রায় সময়েই প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান পাওয়া যেত। ১৯৫৬ সালে এক কৃষক রৌপ্য মুদ্রার এক ভান্ডার আবিষ্কার করেন। কিন্ত তিনি ৭২০ টাকায় রৌপ্যকারের আছে সেগুলি বিক্রি করে দেন। ইতিহাসের পাতা থেকে এই অমূল্য সম্পদ চিরদিনের জন্য হারিয়ে যায়।


সিন্ধু পরবর্তী সভ্যতা

ছবি : সংগৃহীত


এই সিন্ধু পরবর্তী সভ্যতার অনেক তথ্য এখনও অজানা। প্রত্নতত্ত্ববিদরা এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছেন এই সভ্যতা সংশ্লিষ্ট নতুন তথ্য আহরণের।

যেভাবে যাবেন :

ঢাকার কমলাপুর, মহাখালী দু-দিক থেকেই যাওয়া যায়। আপনি যদি আরামদায়ক ভাবে যেতে চান তাহলে কমলাপুর থেকে বী-বাড়িয়াগামী তিশা, সোহাগ, রয়েল অথবা বিআরটিসি এসি। প্রত্যেকটির ভাড়াই ২০০ টাকা। নামতে হবে চৈতন্যা বাস স্ট্যান্ডে। আর যদি মহাখালী থেকে যেতে চান তাহলে ভৈরবগামী বাদশা, উত্তরা অথবা চলনবিল। ভাড়া ১০০ টাকা তবে বাসগুলো নিম্মমানের । আর সায়েদাবাদ থেকে যেতে হলে ওঠে পরুন যেকোন সিলেটি লোকালে আর বলে রাখুন যে চৈতন্যা নামবেন, ভাড়া ৫০-৬০ টাকা। চৈতন্যা নেমে রিকশা নিন , ভাড়া ৪০-৫০ টাকা।



সিন্ধু পরবর্তী সভ্যতা

ছবি : সংগৃহীত



যেখানে থাকবেন :

নরসিংদী শহরে ডাক বাংলো এবং বেশ কিছু ভালো হোটেল রয়েছে। তবে আপনি চাইলে সারাদিন ঘুরে রাতেই ঢাকা ফিরতে পারবেন।  


খালিদ বিন জামান   এস এম