টাঙ্গাইল জেলার ঐতিহাসিক নিদর্শন আদম কাশ্মিরী মাজার

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : প্রাচীন ইতিহাস জড়িয়ে আছে যে মাজারে

adam kashmiri majar হযরত শাহান শাহ বাবা আদম কাশ্মিরী মাজার (রহঃ)-এর মাজার, টাঙ্গাইল। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকার নিকটস্থ জেলাগুলোর মধ্যে টাঙ্গাইল অন্যতম। প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যে ভরপুর এই জেলা ভ্রমণপিপাসুদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাসের সাথে জড়িত বহু নিদর্শন এই অঞ্চলটিকে সমৃদ্ধ করে তুলেছে। তেমনই একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা হলো টাঙ্গাইলের আদম কাশ্মিরী মাজার। ঢাকা হতে সহজেই একদিনে এই মাজার ভ্রমণ করা যায়। প্রাচীনকালে এই উপমহাদেশে ইসলাম প্রচারের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা ওলি-আউলিয়া ও পীরের আগমন ঘটে। ষোল শতকের শেষ দিকে সুফিসাধক হযরত শাহান শাহ বাবা আদম কাশ্মিরি (রহঃ) এই অঞ্চলে এসে ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু করেন। যে স্থানে বসে তিনি মূলত ধর্ম প্রচার করতেন সেই স্থানটিতে মাজার স্থাপন করা হয়। এটি আদম কাশ্মিরী মাজার নামে পরিচিত।

আদম কাশ্মিরী মাজার শরীফ সুফিসাধক হযরত শাহান শাহ বাবা আদম কাশ্মীরি (রহঃ)-এর স্মৃতি বিজড়িত একটি পুণ্যস্থান। এটি টাঙ্গাইল জেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে নাগরপুর উপজেলায় অবস্থিত। বাবা আদম কাশ্মিরি বাংলাদেশে আগত একজন আধ্যাত্মিক ওলি ও ধর্ম প্রচারক। তার জন্ম পনেরো শতকে এবং মৃত্যু ১৬১৩ খ্রিস্টাব্দে। তিনি দীর্ঘ ১৫০ বছর পরমায়ু লাভ করেছিলেন বলে জনশ্রুতি আছে। বাবা আদম কাশ্মিরি ইসলাম ধর্মের প্রচারের জন্য কাশ্মির থেকে এই অঞ্চলে এসেছিলেন। কারও কারও মতে, তিনি ১৫৯৮ সালে সুলতান আলাউদ্দিন হুসায়েন শাহ কর্তৃক আতিয়ার জায়গীরদার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হলে এদেশে এসে বসবাস শুরু করেন। এসময় তিনি কররানী শাসক সোলাইমান কররানী কর্তৃক ধর্মীয় কাজের ব্যয় নির্বাহের জন্য বিশাল এলাকা ওয়াকফ হিসেবে লাভ করেন। শাহান শাহ বাবা আদম কাশ্মিরি তাঁর দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন জনহিতকর কাজ করেছিলেন।

তিনি রাজকোষ থেকে সামান্য কিছু অর্থ নিতেন। এর বেশিরভাগ অংশই তিনি জনকল্যাণে ব্যয় করতেন। তিনি বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, মক্তব, রাস্তাঘাট নির্মাণে কাজ করেছিলেন।আতিয়াতে তাঁর আমলে উৎকৃষ্ট শ্রেণির কাগজ তৈরি হতো। করটিয়ার জমিদার সাঈদ খাঁ পন্নী আদম কাশ্মীরির একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন। তাঁর সম্মানার্থে সাঈদ খাঁ টাঙ্গাইলের আতিয়া মসজিদ নির্মাণ করেন। আতিয়া শব্দের অর্থ 'দান করা'। ১৫৯৮ সালে আলী শাহান শাহ বাবা আদম কাশ্মিরিকে আতিয়া পরগণা দান করা হয়। ১৬১৩ সালে তিনি মৃত্যু বরণ করলে আতিয়াতেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। মৃত্যুর পূর্বে তিনি আতিয়া পরগণার শাসনভার প্রিয়ভক্ত সাঈদ খাঁর ওপর অদর্পণ করেন। আজও আতিয়াতে বাবা কাশ্মিরির মাজার রয়েছে।

যেভাবে যাবেন : রাজধানী ঢাকার মহাখালি ও কল্যাণপুর থেকে টাঙ্গাইলগামী বিভিন্ন পরিবহনের পাওয়া যায়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নিরালা পরিবহন, সোনিয়া পরিবহন, ধলেশ্বরী সার্ভিস, বিনিময় সার্ভিস ইত্যাদি। বাস ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ১৫০-৩০০ টাকা। এছাড়া ট্রেনে যেতে চাইলে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে উত্তরবঙ্গগামী যেকোনো ট্রেনে চেপে টাঙ্গাইল রেলষ্টেশন যেতে পারবেন। টাঙ্গাইল জেলা শহর থেকে নাগরপুর যাওয়ার জন্য সিএনজি পেয়ে যাবেন সহজেই। সিএনজি ভাড়া জনপ্রতি ৫০-৬০ টাকা পড়বে। নাগরপুর উপজেলা পৌঁছে রিক্সা নিয়ে যাওয়া যায় আদম কাশ্মিরী মাজারে।